আল-মিসবাহ ফাউন্ডেশন এর শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের রূপরেখা
আমাদের দেশ ও সমাজ আজ বহুমুখী আগ্রাসনের শিকার; শিক্ষা–সংস্কৃতি থেকে শুরু করে চিন্তা–চেতনা, বিশ্বাস, জীবনাচার সবকিছুতে বিজাতীয় আগ্রাসন ও নানামুখী ফেতনার সয়লাব।
এসব আগ্রাসন ও ফেতনার সফল মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সমাজে শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহ কেন্দ্রিক বিপ্লব প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। আর এ তিনটি ক্ষেত্রে বিপ্লব–প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই মিসবাহ ফাউন্ডেশনের অভিযাত্রা।
সামনে এ তিনটি ক্ষেত্র নিয়ে আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংক্ষিপ্ত কর্মবিবরণ পেশ করা হলো:
১) শিক্ষা
এ কথা সত্য যে, সব যুগে শিক্ষাই জাতি ও সমাজের গতি ও প্রকৃতি নির্ধারণ করে এসেছে। কুশিক্ষা যেমন জাতির জীবনে অনাচার ও অরাজকতার অন্ধকার নামিয়ে আনে, তদ্রূপ শিক্ষা ও দীক্ষার সঠিক পরিমার্জন জাতি ও সমাজকে অন্ধকার ও অনাচার হতে আলোকিত অধ্যায়ে উত্তরণের পথ দেখায়।
তবে এ কথাও সত্য যে, নিছক শিক্ষার সংশোধনই যথেষ্ট নয়, এই পরিমার্জন যদি যুগের দাবী ও চাহিদা অনুযায়ী না হয়, তাহলে তা প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনতে পারে না। যেটা আজ আমাদের সমাজের দুঃখজনক বাস্তবতা।
এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে যুগের চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণ এবং বিজাতীয় শিক্ষার আগ্রাসন মোকাবেলার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) দা.বা. মাদানী নেসাব নামে একটি যুগোপযোগী তালিমী নেসাব ও শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেন। যা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও অনুসৃত হচ্ছে।
সে আলোকিত চিন্তা–চেতনা, প্রাণ ও প্রেরণা ধারণ–পূর্বক সমাজে শিক্ষার অঙ্গনে একটি সফল বিপ্লব আনার লক্ষ্যে মিসবাহ ফাউন্ডেশনের অভিযাত্রা। যার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে আদীব হুযুরেরই স্নেহ ও সোহবত–ধন্য কতিপয় ছাত্র, যাদের অধিকাংশ মাদরাসাতুল মাদীনাহ হতে প্রথাগত পড়াশোনা শেষ করে আদীব হুজুরের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ সময় মাদরাসাতুল মাদীনায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তৎপরবর্তী সময়ে উলূমে শারইয়্যার নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে ‘তাখাসসুস‘ (স্নাতকোত্তর পড়াশোনা) সম্পন্ন করেছেন।
আমাদের শিক্ষাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
আমাদের আকাবির–আসলাফের দিকনির্দেশনা অনুসরণ–পূর্বক এক্ষেত্রে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল: যুগপৎ কর্ম ও ধর্মকে ভিত্তি করে জাতিকে একটি অভিন্ন, একমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দেয়া, যেখানে দ্বীন ও দুনিয়া এবং জগত ও ঊর্ধ্বজগত উভয়ের ঘটবে সুসমন্বয়। কিন্তু যথেষ্ট সময় ও শ্রমসাপেক্ষ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পূর্বে এবং সমাজের চিন্তা ও মনন বাস্তবায়নটি গ্রহণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার পূর্বে সমাজের বিদ্যমান শূন্যতাপূরণে এখন প্রয়োজন একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মাদরাসার স্থানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা, স্কুলের স্থানে স্কুল এবং উভয় অঙ্গনের কর্ম ও ধর্মমুখী শূন্যতা চিহ্নিত করে সেগুলো পূরণে সচেষ্টা হওয়া।
মাদরাসা–কেন্দ্রিক শিক্ষা
সুতরাং আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে, একটি আদর্শ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা। উম্মাহর যে আমানতগুলিকে আল্লাহ আমাদের কাছে পাঠাচ্ছেন, উম্মাহর প্রয়োজনকে সামনে রেখে তাদেরকে সর্বোত্তমভাবে গড়ে তোলা, দ্বীনি ইলমের প্রতিটি শাখায় দক্ষ ও বিদগ্ধ রিজাল প্রস্তুত করা, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জাগতিক শিক্ষা ও দক্ষতার সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে শিক্ষাজীবন শেষে কর্মের অঙ্গনে প্রবেশের মুহূর্তে হোঁচট খেতে না হয় এবং ‘শিক্ষা’ ও ‘প্রয়োগ’ এর মাঝে প্রস্তুতিগত অন্তরায় অনুভূত না হয়।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মিসবাহ ফাউন্ডেশনের প্রথম পদক্ষেপ হলো: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য ‘মাদরাসাতুল মিসবাহ’ এবং উচ্চতর ও গবেষণা স্তরের জন্য ‘জামিয়াতুল মিসবাহ’ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে উলুমের শারইয়্যার সর্বাধিক গুরুত্বসহ সর্বোচ্চমানে পাঠদানের পাশাপাশি নিজস্ব কারিকুলামে জেনারেল শিক্ষার উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সম্পন্ন করানো হবে এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য মাদরাসার তত্ত্বাবধানে ও–লেভেল/এসএসসি অতঃপর এ–লেভেল/এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি মাদরাসার নিজস্ব ল্যাবে অ্যাডভান্সড লেভেল পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য: ‘মাদরাসাতুল মিসবাহ’ ও ‘জামেয়াতুল মিসবাহ’ এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য ‘মাদরাসাতুল মিসবাহ লিল বানাত’ ও ‘জামেয়াতুল মিসবাহ লিননিসা’ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ, সেখানে মেয়েদের অবস্থা উপযোগী কিছুটা সংযোজন–বিয়োজন সহ মৌলিকভাবে অভিন্ন শিক্ষা–কার্যক্রমই অনুসৃত হবে। আমাদের পূর্ণ লক্ষ্য থাকবে– আমল, আখলাক, আফকার এবং জীবন ও সমাজঘনিষ্ট আদাব ও আচার–আচরণ শিক্ষার পাশাপাশি যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তারা যেন কোন অংশেই ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে না থাকে। নারী–পুরুষ উভয় অঙ্গনেই বিজ্ঞ, দক্ষ, আদর্শ ও নীতিবান মানব–সম্পদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
স্কুল–কেন্দ্রিক শিক্ষা
অন্যদিকে উম্মাহর যে বিরাট অংশ স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বড় হচ্ছে, অবচেতনভাবেই চিন্তা ও চেতনায় তাদের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হচ্ছে, তাদের মাঝে দ্বীনের ফরজ ইলমের প্রসার ঘটানো, সঠিক চিন্তা ও চেতনার বিনির্মাণ করা, সর্বোপরি তাদেরকে যার যার অঙ্গন থেকে দ্বীনের দায়ী ও উম্মাহর ‘সম্পদ’ হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম দাবী। এ দাবী পূরণের লক্ষ্যে মিসবাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘মিসবাহ একাডেমি’ (পর্যায়ক্রমে কলেজ ও ইউনিভার্সিটি) প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
নিছক জোড়াতালি দিয়ে একটি শিক্ষাক্রম রচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং খুব সুচিন্তিত পদক্ষেপে স্কুলের কারিকুলামকে ইংলিশ মিডিয়াম ভিত্তিক এমন ভাবে সাজানো উদ্দেশ্য, যাতে জেনারেল পাঠ্য বিষয়ের সর্বোচ্চ মান রক্ষিত হয়, শিক্ষার্থীর চিন্তা ও মননকে পশ্চিমা প্রভাব, বিধর্মী মনোভাব ও কালচারাল আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় এবং খুব মসৃণ ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষাসমূহের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষত দ্বীনি শিক্ষাসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হলো: মাধ্যমিক স্তর সমাপ্তির পূর্বেই যেন একজন শিক্ষার্থী বিশুদ্ধভাবে কোরআন পড়তে সক্ষম হয় এবং যারা হেফজ করতে আগ্রহী তাদের হেফজ সুসম্পন্ন হয়ে যায়, পাশাপাশি অনর্গল আরবি লিখতে বলতে ও পড়তে পারে এবং দ্বীনের ‘আমফাহম’ এবং প্রয়োজনীয় ও প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন হয়ে যায় ।
আমাদের কারিকুলামে অনার্স শেষ হতে হতে দ্বীন সম্পর্কে তার জ্ঞান (একটি স্তর পর্যন্ত) একজন আলিমের চেয়ে কম হবে না ইনশাআল্লাহ।
এসব কিছুর সাথে আমাদের সচেতন দৃষ্টি থাকবে, জেনারেল পাঠ্য–বিষয়ের সর্বোচ্চ মান অর্জনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর যেন কোন ত্রুটি না থাকে। কারণ, শিক্ষার্থীকে দ্বীনের বিষয়ে সচেতন ও জ্ঞানী করে তোলার সাথে সাথে আমাদের লক্ষ্য হলো: তাকে তার অঙ্গনের সর্বোচ্চ যোগ্য করে গড়ে তোলা। তার পাঠ্য–বিষয়ের সর্বোচ্চ মান অর্জন ছাড়া যা সম্ভব নয়।
বয়স্কদের জন্য দীনশিক্ষা বিভাগ:
বর্তমান যুগে মানুষের জীবন নানা ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের কারণে অনেকের পক্ষেই দীনী শিক্ষায় পূর্ণকালীন সময় দেয়া সম্ভব নয়। অথচ একজন মুসলমানের জন্য তার দীন সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা এবং ইবাদত–বন্দেগী সহীহভাবে আদায় করার পদ্ধতি শেখা ফরয।
এই প্রয়োজনকে সামনে রেখে আমাদের মাদরাসায় দীন শিক্ষার খণ্ডকালীন বিভাগ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় স্কুল–কলেজের ছাত্রছাত্রী, পেশাজীবী–কর্মজীবী ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ তাদের সুবিধাজনক সময়ে দীন শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
এই বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো—
মানুষের মাঝে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার প্রচার ও প্রসার।
ইবাদত–বন্দেগী সহীহভাবে আদায় শিক্ষা দেয়া।
প্রত্যেককে তার অঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্ট দ্বীনি মাসায়েলের প্রশিক্ষণ–প্রদান।
ইসলামী আদব–আখলাক ও উত্তম চরিত্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে ইসলামের নির্দেশনা অনুসরণের চেতনা জাগ্রত করা ও সংশ্লিষ্ট মাসায়েল শিক্ষা দেয়া।
২) সেবা
আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, খেদমাতুল খালক ও আর্তমানবতার সেবা উভয় জীবনে আমাদের মর্যাদা ও সম্মান অর্জনের অন্যতম পথ।
এটাই ছিল আমাদের পেয়ারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত–পূর্ব ও নবুওয়াত–পরবর্তী সারা জীবনের আদর্শ, এটা ছিল সাহাবায়ে কেরামের জীবনের উজ্জ্বলতম দিক এবং পরবর্তী যুগে ওলামায়ে কেরামের পরিচয়–বৈশিষ্ট্য। আমরা যদি দুনিয়াতে মর্যাদার জিন্দেগি পেতে চাই এবং আখেরাতে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে চাই, তাহলে আমাদের সামনে খেদমাতুল খালক ও আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
নবীজীর হাদীস:‘আখেরী যামানায় নাসারাদের সংখ্যাধিক্য হবে।” কারণ হিসেবে হযরত আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “কারণ তারা…. এতিম,মিসকীন ও দুর্বল শ্রেণির লোকদের জন্য সর্বোত্তম, রাজাদের যুলুম থেকে জনগণকে রক্ষায় অগ্রগামী।“ (সহীহ মুসলিম–২৮৯৮)
অর্থাৎ, খেদমত খালক হলো শেষ যামানায় তাদের সংখ্যাধিক্য ও ইযযত প্রাপ্তির অন্যতম কারণ।
নিজের চোখেই আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি এ ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা ও বাস্তবতা। আমরা আজ তাদের জাগতিক উত্থান দেখে বিস্মিত হই, আর আমাদের অবস্থার প্রতি আত্মবিলোপ করি, কিন্তু তাদের উত্থান ও আমাদের অধঃপতনের কারণগুলো চিহ্নিত করতে ভুলে যাই।
সমাজ সেবার জন্য ওরা বড় বড় সংস্থা গড়ে তোলে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে, আর আমরা ঘুমাই আত্মতৃপ্তির ঘুম! পাশের প্রতিবেশীটি অনাহারে না অর্ধাহারে রইল, সে খোঁজ নেয়ার ফুরসতটুকু আমাদের থাকে না।
আমরাও যদি আমাদের অধঃপতনকে উত্থানে রূপান্তরিত করতে চাই, তাহলে যে বিষয়গুলোর সংশোধন সর্বাগ্রে জরুরী, সেগুলোর অন্যতম হলো: নিজেদের মাঝে খেদমতুল খালক্বের চেতনা পুনর্জীবিত করা।
সেজন্য মিসবাহ ফাউন্ডেশন এর বুনিয়াদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অন্যতম হলো: বিস্তৃত পরিসরে তাওফীকমত খেদমতুল খালক ও আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করা।
আমাদের সেবামূলক কার্যক্রমের অন্যতম হলো:
মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী, যারা অর্থ–অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না, তাদের সহায়তা করা।
এতিম, বিধবা ও বৃদ্ধদের জন্য আদর্শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিস্থাপন করা।
বন্যা,শীত ইত্যাদি দুর্যোগে সাধ্যমত দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানো
সমাজের দিনমজুর ও অসহায় শ্রেণীর জন্য কর্মসংস্থান ও সাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করা।
ইত্যাদি।
৩) দাওয়াহ
মিসবাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য হলো: সমাজে বিস্তৃত পরিসরে দাওয়াতের মেহনতের জন্য একটি দায়ী প্রজন্ম গড়ে তোলা, যেন দাওয়াতের প্রতিটি অঙ্গন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাদের বিচরণে সরব ও সজীব থাকে।
বিশেষভাবে এক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হলো:
নাস্তিক্যবাদ ও যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের জবাব দিতে সক্ষম, বিশেষত কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে বিশেষ দক্ষতা রাখে এমন রিজাল প্রস্তুত করা।
ফেরাকে বাতেলা ও ভ্রান্ত মতবাদসমূহের প্রতিরোধে পারঙ্গম লোকবল তৈরি করা।
খ্রিস্টান মিশনারি ও কাদিয়ানীদের অপতৎপরতা রোধে প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে দাওয়াতি মিশন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া। ঈমান–বিধ্বংসী ফেতনাসমূহ থেকে সতর্ক করা ও ঈমান–আমল মজবুত করার লক্ষ্যে আক্রান্ত জনপদে বিশেষ দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা। সর্বসাধারণের দ্বীন–শিক্ষার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে মক্তব–মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানের অসহায় ও দুস্থদের মাঝে সেবামূলক কার্যক্রম বাড়ানো। যাতে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কোন দল তাদের ঈমান–ধ্বংসের অপতৎপরতায় মেতে উঠতে না পারে।
মিডিয়া অঙ্গনে দাওয়াতের জন্য দক্ষ লোকবল তৈরি করা এবং নিজেদের প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করা।
সুতরাং বিজ্ঞজনমাত্রই উপলব্ধি করবেন, মিসবাহ ফাউন্ডেশন সামাজে গড়ে ওঠা ‘সচরাচর’ কোন প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, বরং তা সমাজ সংশোধন এবং শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহর অঙ্গনে বিপ্লব সাধনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ যেন কবূল করেন। আমীন।