কিতাব বিভাগ
কিতাব বিভাগে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চারটি স্তরে বিন্যস্ত
প্রাথমিক স্তর
তিন বছর (দুর্বলদের জন্য প্রয়োজনে চার বছর)
মাধ্যমিক স্তর
তিন বছর
চূড়ান্ত স্তর
দুই বছর
গবেষণা স্তর
দুই বছর (+১ বছর)
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক–স্তর মাদ্রাসাতুল মিসবাহের অধীনে পরিচালিত হবে,আর চূড়ান্ত ও গবেষণাস্তর জামিয়াতুল মিসবাহের অধীনে পরিচালিত হবে।
পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও ‘মাদরাসাতুল মিসবাহ লিল বানাত’ ও ‘জামেয়াতুল মিসবাহ লিননিসা’ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ, সেখানে মেয়েদের অবস্থা–উপযোগী কিছুটা সংযোজন–বিয়োজন সহ মৌলিকভাবে অভিন্ন শিক্ষা–কার্যক্রমই অনুসৃত হবে। আমাদের পূর্ণ লক্ষ্য থাকবে– আমল, আখলাক, আফকার এবং জীবন ও সমাজঘনিষ্ট আদাব ও আচার–আচরণ শিক্ষার পাশাপাশি যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তারা যেন কোন অংশেই ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে না থাকে।
নারী–পুরুষ উভয় অঙ্গনেই বিজ্ঞ, দক্ষ, আদর্শ ও নীতিবান মানব–সম্পদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক–স্তর মাদ্রাসাতুল মিসবাহের অধীনে পরিচালিত হবে,আর চূড়ান্ত ও গবেষণাস্তর জামিয়াতুল মিসবাহের অধীনে পরিচালিত হবে।
পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও ‘মাদরাসাতুল মিসবাহ লিল বানাত’ ও ‘জামেয়াতুল মিসবাহ লিননিসা’ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ, সেখানে মেয়েদের অবস্থা–উপযোগী কিছুটা সংযোজন–বিয়োজন সহ মৌলিকভাবে অভিন্ন শিক্ষা–কার্যক্রমই অনুসৃত হবে। আমাদের পূর্ণ লক্ষ্য থাকবে– আমল, আখলাক, আফকার এবং জীবন ও সমাজঘনিষ্ট আদাব ও আচার–আচরণ শিক্ষার পাশাপাশি যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তারা যেন কোন অংশেই ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে না থাকে।
নারী–পুরুষ উভয় অঙ্গনেই বিজ্ঞ, দক্ষ, আদর্শ ও নীতিবান মানব–সম্পদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
প্রাথমিক স্তরের লক্ষ্য
দ্বীনের ‘আম ফাহম’ হাসিল করানো। উলুমে শারইয়ার ফন ও শাস্ত্রসমূহের সঙ্গে পরিচিত করা, এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় ও প্রাথমিক মালুমাত ও মাহারাত হাসিল করানো।
নিজস্ব কারিকুলামে জেনারেল শিক্ষার প্রাথমিক স্তর ও আংশিক মাধ্যমিক স্তর সমাপ্ত করানো।
বেসিক কম্পিউটার শিক্ষা (বাংলা, আরবী, ইংরেজি টাইপিং, এবং Office ও Adobe প্রোগ্রামসমূহের বেসিক যার অন্যতম।)
একজন শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত কার্যকর ও সফলভাবে ভাষা–শিক্ষার স্তরটি পার করানো।
এ স্তর শেষে মিশরের আল–আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের লুগাহ ইনস্টিটিউটের অধীনে ভাষা–পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের এ স্তরের ভাষা–শিক্ষার মান নির্ণিত ও নির্দিষ্ট থাকে, এবং যাতে আযহার গমনেচ্ছু তালেবে ইলমদের জন্য সেখানে গিয়ে সরাসরি পরবর্তী ধাপে ভর্তির সুযোগ থাকে, ভাষা–শেখা ও পরীক্ষার পেছনে ২–৩ বছর সময়–ক্ষেপণ করতে না হয়।
আমাদের পাঠ্যক্রমে কী কী ভাষা অধ্যয়নের ব্যবস্থা থাকবে?
আদীব হুযুরের ভাষায়,‘আমাদের নেছাবে তা‘লিমে স্তর–তারতম্যসহ মোট চারটি ভাষা অধ্যয়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে, মাতৃভাষা বাংলা, কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা আরবী, উলুমুল কোরআন ও সুন্নাহর ভাষা উর্দু এবং আধুনিক জ্ঞান–বিজ্ঞানের এবং কর্মজগতের প্রয়োজনীয় ভাষা ইংরেজী।’
মাদরাসাতুল মিসবাহে এই চারটি ভাষার শিক্ষা মূল পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে, আর ফারসি ও আরো কিছু ভাষা কোর্স আকারে সাজানো থাকবে, আগ্রহী তালেবে ইলম চাইলে সেগুলো (মাধ্যমিক ও তৎপরবর্তী স্তরে) শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ফারেগ সময়ে শিখে নিতে পারে।
মাধ্যমিক স্তরের লক্ষ্য
ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রসর স্তরের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
তুলনামূলক এডভান্সড কম্পিউটার শিক্ষা।
উলুমে শারইয়্যার প্রতিটি ফনের শাস্ত্রীয় অধ্যয়নের সূচনা, এবং সেগুলোর মাহের ও দক্ষ শিক্ষকগণের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তুলনামূলক গভীর ও দালিলিক অধ্যয়ন। লক্ষ্য: তালিবে ইলমদের মাঝে যেন এই স্তরে ভবিষ্যতের বিদগ্ধ গবেষকের সুদৃঢ় ভিত গড়ে ওঠে।
নিজস্ব কারিকুলামে জেনারেল শিক্ষার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর সমাপ্তিকরণ। (যাতে সংক্ষিপ্ত সময়ে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জিত হয়, এবং মূল বিষয়সমূহের অধ্যয়ন বিঘ্নিত না হয়।) এ স্তর শেষে কোন তালিবে ইলম চাইলে (মাদরাসার তত্ত্বাবধানে) প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক ও–লেভেল/এসএসসি অতঃপর এ–লেভেল/এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে।
তৃতীয় বছর শেষে তার যে ভাষাগত যোগ্যতা হবে, চাইলে IELTS/TOEFL স্বচ্ছন্দে দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
চূড়ান্ত স্তরের লক্ষ্য
এই স্তর শুধু উলুমে শারইয়্যার জন্য নির্দিষ্ট। তালিবে ইলমরা দুই বছরে ফযিলত ও তাকমীল (মেশকাত ও দাওরা) সমাপ্ত করবে। ফযিলত ও তাকমীলের পাঠ্যক্রমে ও পাঠন–পদ্ধতিতে প্রচলিত ধারার সাথে খুব সুচিন্তিত সংযোজন–বিয়োজন থাকবে, যাতে দরসগুলো নিছক এবারতখানি ও মাসায়েলের মুহাযারা না হয়ে যায়, যাতে এই স্তর শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে علوم شرعية এর (একটি স্তরের) শাস্ত্রীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জিত হয় এবং গবেষণার ‘হাতেখড়ি‘ এবং যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
এই স্তরের সমাপ্তি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ‘রিসালাহ‘ তথা গবেষণাপত্র প্রস্তুত করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
গবেষণা-স্তর: (পরিকল্পনাধীন)
উচ্চতর গবেষণা বিভাগসমূহ:
১. উলূমুল কুরআন
২. উলূমুল হাদীস
৩. ফিকহ ও ফতোয়া বিভাগ
৪. দা‘ওয়াহ বিভাগ
৫. কিসমুল লুগাহ তথা উচ্চতর ভাষা–প্রশিক্ষণ বিভাগ
আমাদের উচ্চতর বিভাগসমূহের প্রথম দুবছর বিভাগের বিস্তৃত অধ্যয়নের জন্য নির্ধারিত, পরবর্তী এক/দুবছর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগের কোন একটি অনুষঙ্গ নিয়ে গভীর ও বিস্তীর্ণ গবেষণা করা ও গবেষণা–পত্র (থিসিস) প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক।
যেমন, উচ্চতর ফিকহ ও ফতোয়া বিভাগের প্রথম দুই বছর হবে সাধারণ ফিকহ বিভাগের মতো, ফিকহের প্রতিটি শাখা সম্পর্কে তালিবে ইলমরা দলীল ও তুলনামূলক বিশ্লেষণসহ গভীর অধ্যয়ন করবে। পাশাপাশি মানসম্মত ও পর্যাপ্ত তামরীন ও অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকবে।
এ দুইবছর সফলভাবে সমাপ্ত করার পর উত্তীর্ণ ও নির্বাচিত তালিবে ইলমগণ ফিকহের যে কোন একটি অনুষঙ্গ (যেমন উসুলুল ফিকহ, ইসলামী অর্থনীতি , ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ‘কাযা’ তথা ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স অন জুডিশিয়ারি ইত্যাদি যে কোন একটি বিষয়) নিয়ে বিস্তীর্ণ গবেষণা করবে, এবং থিসিস লিখবে। এ পর্যায়ে নিছক টেবিল–গবেষণা গ্রহণযোগ্য না, ফিল্ড–ওয়ার্ক করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও ‘কর্মরত’ ব্যক্তিদের অধীনে ইন্টার্নশীপ সমাপ্ত করতে হবে।
আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে দেশ–বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা–প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে লিয়াজু করার, যেন এ পর্যায়ের গবেষণায় তারা এক্সটার্নাল সুপারভাইজর তথা বহিরাগত নিরীক্ষক হিসেবে থাকে, এবং থিসিস ও গবেষণাপত্রের মান নির্ণিত ও স্বীকৃত হয়।